DC Forum

শিশুদের জন্য প্রোগ্রামিং

শিশুরা সাধারনত খেলাধুলা করতে খুব ভালোবাসে। পড়ায় তাদের মন বসে না। শিশুরা কার্টুন দেখতে ভালোবাসে, হোমওয়ার্ক এর চাইতে কার্টুন তাদের বেশি আকৃষ্ট করে। বর্তমান স্মার্ট ফোন, ট্যাব ও কম্পিউটারের জমানায় খুব কম শিশুই পাওয়া যাবে যে কোন না কোন ভাবে এই প্রযুক্তি পন্যগুলোর সংর্ম্পশে আসছে না। স্মার্ট ফোনের স্কীন শিশুদের যতটা আকৃষ্ট করে, বর্তমান সময়ে আমার মনে হয় না এর চাইতে বেশি পছন্দের আর কিছু আছে শিশুদের জন্য। এই পছন্দের যায়গাটাকে আমাদের বড়দের পজেটিভলি কাজে লাগাতে হবে। শিশুদের আমরা বলতেই পারি তুমি মোবাইলে যেই গেইমসটি খেলছো, এমন একটি গেইমস বা এর চাইতেও ভালো কোন গেইমস তুমি চাইলে তৈরি করতে পারো। তোমার তৈরি করা গেইমস সারা পৃথিবীর মানুষ খেলবে। এছাড়া আরো বলা যায় তুমি যেই কার্টুন দেখছো এইরকম একটি কার্টুনতো তুমিই তৈরি করে ফেলতে পারো। তুমি আরও মজাদার কার্টুন তৈরি করতে পারো খুব সহজে। এতে শিশুদের বিশাল আগ্রহ তৈরি হবে, জানতে চাইবে কিভাবে তা সম্ভব? আমরা তাদের পরামর্শ দিতে পারি প্রোগ্রামিং এর কথা বলে। যেহেতু প্রোগ্রামিংটা তার চারপাশে কেউ করছে না, সে কখনো দেখছে না বা দেখেনি, তাই তার কাছে প্রোগ্রামিং বিষয়টা মোটেও কঠিন মনে হবে না। আমরা বড়রা জানি বা আমাদের মাথায় আছে প্রোগ্রামিং করবে শুধু মাত্র বড়রা, প্রোগ্রামিং করে কম্পিউটার সাইন্সের স্টুডেন্টরা, সাইন্সে না পড়লে প্রোগ্রামিং করা যায় না, প্রোগ্রামিং পড়তে হয় ভার্সিটিতে গিয়ে, অধিকতর মেধাবী না হলে প্রোগ্রামিং করা যায় না, ইত্যাদি ইত্যাদি। বড়দের এই জানাটা বর্তমান বিশ্বে ভুল প্রমানিত হয়ে গেছে অনেক আগেই। প্রোগ্রামিং এখন আর শুধু মাত্র বড়দের বিষয় নয়, কম্পিউটার সাইন্সের বিষয় নয়, ভার্সিটির বিষয় নয়। একেবাবে শিশুকাল থেকে, যে কালে শিশুরা অ,আ বা অ,ই,ঈ,উ পড়ে, সেকাল থেকে শিশুরা প্রোগ্রামিং শিখা শুরু করতে পারে। প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন একটি শিশু ৫বছর বয়স থেকেই প্রোগ্রামিং শিখতে পারে। আমরা জেনে আবাক হয়ে যেতে পারি আজকের বিলগেটস মাত্র ৮ বছর বয়সে প্রোগ্রামিং এ দক্ষতা অর্জন করেছেন, মার্ক জাকার বার্গ মাত্র ৭ বছর বয়সে প্রোগ্রামিং কমপ্লিট করেছেন। এইতো গেল বিশ্ব সেরা ব্যক্তিদের প্রসংঙ্গ, আমাদের দেশে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা, যেখানে তৃতীয় শ্রেনীতে পড়–য়া একটি শিশু এই প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করতে পারে। ইতিমধ্যে অনেক স্কুলের শিশুরাই এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মান লাভ করেছে। আজকাল আমাদের অনেক তরুন তরুনীরা ট্রেনিং সেন্টার থেকে প্রোগ্রামিং শিখে বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট ডিজাইন ও ডেভলাপ করছে, ফ্রিল্যান্সিং করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে, গেইমস তৈরি করছে, নিত্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার তৈরি করছে। শিক্ষা, স্ব্যাস্থ্য, বিনোদন ইত্যাদি বিভিন্ন সেক্টরে আবদান রাখছে দেশের প্রোগ্রামাররা, তাদের অনেকেই কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার না বা পড়ালেখা সাইন্সে করেনি। শিশুকাল থেকে যেই শিশুরা প্রোগ্রামিং শিখা শুরু করে দিবে ভবিষৎতে সে যেই বিষয় নিয়েই পড়ালেখা করুক না কেন প্রোগ্রামার হওয়া থেকে তাকে কেউ আটকাতে পারবে না। ধরুন একটি শিশু যে শিশুকাল থেকে প্রোগ্রামিং শিখছে বড় হয়ে সে মানবিক বিভাগে পড়া লেখা করে একটি কোম্পানির মালিক বা চাকুরী করছে। সেই কোম্পানির একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার দরকার। শিশুকাল থেকে প্রোগ্রামিং শিখা সেই মানুষটি নিজেই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলতে পারবে। একজন প্রোগ্রামারের জন্য এটি একটি ছোট কাজ হয়ে যাবে তখন। প্রোগ্রামিং শিখার মধ্য দিয়ে শিশুদের মধ্যে সমস্যা সমাধানের কৌতুহল তৈরি হয়, এই কৌতুহল থেকেই সে তার ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, ছাত্র জীবন, কর্ম জীবন ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানে পারর্দশী হয়ে উঠে।
শিশুকালে যেই লেখা পড়াটা শিশুদের ভয়ের কারন হয়ে থাকে প্রোগ্রামিং শিখা বা জানা শিশুদের জন্য সেই লেখা পড়াটা অনেক সহজ বিষয় মনে হয়। প্রোগ্রামিং শিখার মধ্য দিয়ে শিশুদের ব্রেইন অনেক শার্প হয়, অনেক কঠিক পড়াও তাদের জন্য সহজ মনে হয়। তারা যুক্তি দিয়ে কথা বলা ও কাজ করতে শিখে। যে কোন সমস্যা সমাধানে খুব সুক্ষ ভাবে এগিয়ে যেতে পারে, গণিতে খুব দক্ষ হয়ে উঠতে পারে। ভবিষৎতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংএ পড়া লেখা করাটা তাদের জন্য ডাল ভাতের মতো মনে হয়। রোজগার বা চাকুরীর জন্য এই মানুষটিকে কখনও ভাবতে হয় না। তাই গেইমস খেলা শিশুটাকে প্রোগ্রামিং শিখানো উচিত যাতে সে নিজেই ভালো কোন গেইমস তৈরি করতে পারে, কার্টুন দেখা শিশুটাকে প্রোগ্রামিং শিখানো উচিত যাতে সে নিজেই ভালো কোন কার্টুন তৈরি করতে পারে, গান গাওয়া শিশুটিকেও প্রোগ্রামিং শিখানো উচিত যাতে সে ভালো কোন মিউজিক তৈরি করতে পারে, এই ভাবে যে বিষয় নিয়েই শিশুর আগ্রহ থাকুক না কেন, সেই বিষয়েই অধিকতর জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রোগ্রামিং শিখা উচিত যাতে করে ঐ বিষয়ে সে ভবিষৎতে প্রোগ্রামার হয়ে উঠতে পারে।

শিশুদের জন্য প্রোগ্রামিং

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *