DC Forum

প্রোগ্রামিং কি?

‘প্রোগ্রামিং’ হলো ডাল-ভাতের মতো। কি আবল তাবল মনে হচ্ছে? আচ্ছা একটু পরিষ্কার করেই বলি। আমরা প্রতিদিন কত রকমের তরকারী দিয়ে ভাত খাই। কত মজার মজার তরকারী তোমাদের মা’রা রান্না করেন। কত নতুন নতুন রেসিপি। মাঝে মাঝে হয়তো তোমরা নিজেরাও চেষ্টা করে দেখ কোন নতুন একটি রেসিপি তৈরি করা যায় কিনা। এই এতটুকুতে তোমরা যদি আমার সাথে একমত হও তাহলে ধরে নেয়া যায় তোমরা ‘প্রোগ্রামিং’ সম্পর্কে বুঝে গেছো বা জেনে গেছো। কি চোখ কি কপালে উঠে যাচ্ছে? না না চোখ কপালে উঠানোর দরকার নেই। ‘প্রোগ্রামিং’ যে মায়ের হাতে রান্না করা মজার তরকারী ছাড়া অর্থাৎ ডাল-ভাত ছাড়া আর কিছুই না তা এখনই তোমরা জেনে যাবে।

তোমার পছন্দের একটি রেসিপি বলো- “সরষে ইলিশ” বাহ খুব মজার একটি খাবার, শুনেই খেতে ইচ্ছে করে। আমারতো মুখে জল এসে গেছে। তোমাদের কি অবস্থা? এইবার আসা যাক ‘সরষে ইলিশ’ রান্নায়- আমরা একটু সবাই শেয়ার করি ‘সরষে ইলিশ’ খেতে হলে প্রথমে আমাদের কি করতে হবে? জী অবশ্যই ‘ইলিশ মাছ’ ও ‘সরষে’ জোগাড় করতে হবে। মাছকে কেটে, ধুয়ে, মুছে পরিষ্কার করে নিতে হবে, সেই সাথে শরিষাকে ধুয়ে পরিষ্কার করে বেঁটে নিতে হবে। সকল ধরনের মশলা রেডি করে হাড়ীতে রান্না বসাতে হবে। একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর নাড়া দিতে হবে, লবন, মরিচ বা মশলা ঠিক মতো হলো কিনা চেক করতে হবে। একটা সময় শেষে রান্না শেষ হবে আর আমরা গরম ভাতের সাথে ‘সরষে ইলিশ’ মজা মজা করে খেয়ে নিবো। হয়ে গেলোতো একটি ‘প্রোগ্রামিং’। এখনো বুঝা যাচ্ছে না ব্যপারটা আসলে কি?

আরেকটু পরিষ্কার করতে হবে তাই না? এতক্ষণ ‘সরষে ইলিশের’ যেই রেসিপি বা গল্পটা আমরা শুনলাম তাই আসলে ‘প্রোগ্রামিং’, কিন্তু কিভাবে? দেখো আমরা একটি খাবার মেনু তৈরি করার সিন্ধান্ত নিয়েছি। মেনুটি হলো “সরষে ইলিশ”। এই মেনুটি তৈরির উদ্দেশ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। ‘প্রোগ্রামিং’ ও একই, কোন একটি মেনু তৈরি বা সমস্যা সমাধানের সিন্ধান্ত নেয়া হয়। সেই সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ শুরু করতে হয়। ‘সরষে ইলিশ’ রান্নার জন্য যেমন ধারাবাহিক ভাবে আমাদের কিছু কাজ করতে হয়েছে, ঠিক তেমনি ভাবে ‘প্রোগ্রামিং’এর জন্য ও ধারাবাহিক ভাবে কিছু কাজ বা নির্দেশনা বা কমান্ড দিতে হয়। ‘সরষে ইলিশ’ মজাদার হওয়ার জন্য যেমন সকল মশলা, তৈল, লবন ইত্যাদি সঠিক মাত্রায় দিয়ে রান্না করতে হয়েছে ঠিক তেমনি ভাবে সকল কমান্ড বা নির্দেশ সঠিক ভাবে দিয়ে ‘প্রোগ্রাম’ তৈরি করা হয়।

এই বার একটু অন্যভাবে বলি। আমরা যেই স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করি তাতে মিউজিকের এ্যাপসটাতে ক্লিক বা টাচ করলেই মিউজিক চলে আসে, ফটোতে ক্লিক বা টাচ করলে ফটো চলে আসে, এই সবকিছুই হয় ‘প্রোগ্রামিং’ এর কারনে। ‘প্রোগ্রামিং’ এর মাধ্যমে এমন কমান্ড দেয়া আছে যে, কেউ টাচ বা ক্লিক করলেই যেন গান বা ফটো চলে আসে। ‘প্রোগামিং’ টা এই ভাবে না করে যদি অন্য ভাবে অর্থাৎ তিনবার টাচ বা ক্লিক করলে গান বাজবে বা ফটো আসবে করা হতো, তাহলে তোমাকে তিনবারই টাচ বা ক্লিক করতে হতো। কম্পিউটারে কিছু কমান্ড আছে দুইবার বা ডবল ক্লিক করতে হয়। ‘প্রোগ্রামিং’এ নির্দেশ সেই ভাবে দেয়া আছে তাই দুইবার বা ডবল ক্লিক করতে হয়।

এই বার একটু পুঁথিগত বিদ্যায় নজড় দেই, আমরা প্রতিনিয়ত যেই স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করি তাতে যদি সুনির্দিষ্ট ‘প্রোগ্রাম’ না দেয়া হতো তা হলো তা কোন কাজই করতো না। সেই প্রেক্ষিতে বলা যায়, কতিপয় সন্নিবেশিত নির্দেশনা বা কমান্ড বা প্রোগাম ছাড়া কম্পিউটার একটি জড় পদার্থ মাত্র। সকল ধরনের প্রোগ্রামের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কম্পিউটার একটি বুদ্ধিমান যন্ত্রে পরিনত হয়।

শেষ করতে চাই একদম সহজ ভাষায় একটি কথা বলে, কম্পিউটারে কাজ করার জন্য পূর্বে থেকেই কিছু নির্দেশনা দেয়া থাকে বা দিতে হয়, নির্দেশনা ছাড়া কম্পিউটার কোন কাজ করতে পারে না। সেই সকল নির্দেশনা বা কমান্ডকে একত্রে ‘প্রোগ্রামিং’ বলে। ‘প্রোগ্রামের’ আরেক নাম সফটওয়্যার। ‘প্রোগ্রামিং’ এর বিভিন্ন ধরনের ভাষা আছে, ব্যাকরণ আছে, রুলস রেজুলেশন আছে। সমস্ত নিয়ম নীতি মেনে ‘প্রোগ্রামিং’ কোড লিখতে হয়।

প্রোগ্রামিং কি?

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *